হেডক্লার্ককে টাকা না দেয়ায় উপবৃত্তির টাকা পায়নি শিক্ষার্থীরা – আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

হেডক্লার্ককে টাকা না দেয়ায় উপবৃত্তির টাকা পায়নি শিক্ষার্থীরা

বিকাশে ছাত্রীদের উপবৃত্তি পাঠানো বাবদ টাকা দাবি করেছিলেন স্কুলের হেডক্লার্ক। বেশিরভাগ অভিভাবক টাকা দিলেও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন চল্লিশ-পঞ্চাশজন অভিভাবক। তাই এই অভিভাবকদের মেয়েদের উপবৃত্তির টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া স্কুল থেকে সম্পন্ন করা হয়নি। অন্যরা উপবৃত্তির টাকা পেলেও পাননি প্রতিবাদ জানানো এসব অভিভাবক। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হলেও তিনি এর প্রতিকার করেননি। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর মাসদাইরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রীর অভিভাবকরা জানান, তাদের মেয়েরা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও গত তিন বছর উপবৃত্তি দেওয়া হয়নি। গত বছরের শেষ দিকে উপবৃত্তির টাকা বিকাশে পাঠানো হবে জানিয়ে তাদের একটি ফরম পূরণ করতে বলা হয়। তারা ফরম পূরণ করলে স্কুলের হেডক্লার্ক কাম অ্যাকাউন্ট্যান্ট এনাম আহমেদ সবাইকে জানান বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে ত্রিশ টাকা করে লাগবে। তিনি অভিভাবকদের ত্রিশ টাকা করে তার কাছে দিতে বলেন। উল্লিখিত চার অভিভাবকসহ চল্লিশ-পঞ্চাশজন অভিভাবক টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো টাকা লাগে না। আমাদের পুরোনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে। সেটাতে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

মে মাসের শুরু থেকে ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আসা শুরু করে। দুই দফায় ছয় হাজার দুইশ টাকা আসে। যেসব অভিভাবক হেডক্লার্ককে অ্যাকাউন্ট খুলতে টাকা দেননি তাদের টাকা আসেনি। তারা স্কুলে যোগাযোগ করলে হেডক্লার্ক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীর মা জানান, তারা যদিও বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ত্রিশ টাকা দিয়েছিলেন, তারপরেও তাদের টাকা আসেনি। না আসায় তারা হেডক্লার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের

জানান, ওইটা বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার খরচ। চা-পানের খরচ না দিলে টাকা কীভাবে আসবে। পরে দু’জনে আরও একশ টাকা করে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের টাকা চলে আসে।

অভিযোগের ব্যাপারে হেডক্লার্ক এনাম আহমদ বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট আমরা খুলিনি। এটা বিকাশের লোকজন খোলে। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।

ছাত্রীদের তালিকা তো স্কুল থেকে নেয়। টাকা না দিলে আপনি সংশ্নিষ্ট ছাত্রীর তালিকা বিকাশ কোম্পানিকে দিচ্ছেন না-এমন অভিযোগ রয়েছে জানালে এর উত্তরে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করতে বলে ফোন রেখে দেন।

অভিভাবকরা উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করলেও আপনি ব্যবস্থা নেননি এমন প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বেগম বলেন, একজন মাত্র অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। আগামী ৫ জুন আমি স্কুলে আসব। তখন ব্যবস্থা নেব।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আবু তালেব জানান, অভিভাবকরা আমার কাছে অভিযোগ করার পর আমি হেডক্লার্কের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন চল্লিশ-পঞ্চাশজন ছাত্রী বিকাশের সমস্যার কারণে উপবৃত্তির টাকা পায়নি। তবে অভিভাবকরা আমাকে জানিয়েছেন, টাকা না দেওয়ায় হেডক্লার্ক তাদের হয়রানি করছেন। বিকাশের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। তারপরও আমি চেষ্টা করছি সমস্যার সমাধান করতে।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার ছাত্রী পড়াশোনা করে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসক মুহতাসিম বিল্লাহ জানান, তিনি অভিযোগটি খোঁজ নিয়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এখানে কেউ কোনো অনৈতিক কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   

আপনার মতামত প্রকাশ করুন