সাজা তো আপনার হওয়া উচিত : রিকশা গুঁড়িয়ে দেওয়া তাসকিনের বাবাকে বিচারক - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

সাজা তো আপনার হওয়া উচিত : রিকশা গুঁড়িয়ে দেওয়া তাসকিনের বাবাকে বিচারক

SS iT Computer

সাজা তো আপনার হওয়া উচিত : রিকশা গুঁড়িয়ে দেওয়া তাসকিনের বাবাকে বিচারক রাজধানীর বেইলি রোডে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে রিকশা গুঁড়িয়ে দিয়ে পাঁচ মাসের শিশুসহ তিন আরোহীকে আহত করার ঘটনায় গ্রেফতার কিশোর তাসকিন আহমেদ শাফিকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তারজেল হোসেনের ১৫ বছর বয়সী এই ছেলেকে ঢাকার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। তার পক্ষে তার বাবা জামিন আবেদন করেন।

আবেদনের ওপর শুনানির সময় ওই কিশোরের আইনজীবী বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাজা তো আসলে আপনার হওয়া উচিত।’ শুনানি শেষে দুটি আবেদনই নাকচ করে কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক আল-মামুন।

শুনানির সময় বিচারক ওই কিশোরকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওর তো গাড়ি চালানোর বয়স হয়নি। লাইসেন্স নেই। তার হাতে গাড়ি দিল কেন? ওর বাবা এত দায়িত্বহীন কেন?’

গাড়ি কার নামে নিবন্ধিত জানতে চাইলে ওই কিশোর বলে, তার বাবার নামে গাড়ি। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বিচারককে বলেন, ‘সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি, ছয় মাস আগে কেনা। তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।’

বিচারক তার কাছে তার ছেলের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি না সূচক জবাব দিয়ে বলেন, তার ছেলে যে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না। তখন বিচারক তাকে বলেন, ‘সাজা তো আসলে আপনার হওয়া উচিত।’

কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরকে বিচারক বলেন, ‘এখনও অনেক সময় পড়ে আছে। বড় হও, অনেক গাড়ি চালাতে পারবে। তুমি তো একজনের ছেলে। যে শিশুটিকে আহত করেছ, সেও তা কারও না কারও ছেলে। কত সময়, কত দিন পড়ে আছে, জীবনটা কি এত ছোট!’

শিশু বিবেচনায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করার কথা জানালেও কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন বিচারক।

হাতিরঝিল থানায় করা মামলার নথি অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ফখরুল হাসান তার পাঁচ মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে বের হন। তিনি একটি রিকশা নিয়ে মগবাজার থেকে বেইলি রোড হয়ে রমনা পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেইলি রোডে একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেটকার তাদের বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

এতে তাদের দু’জনের সঙ্গে রিকশাচালক আনোয়ার ইসলামও গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় পুলিশ। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই কিশোর মাকে নিয়ে বাসে করে মেহেরপুরের গাংনীতে দাদার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। পরে সংশ্লিষ্ট ওই দুই থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.