শিক্ষা ভবনে বিশৃঙ্খলা, ঘুষ বেড়েছে - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

শিক্ষা ভবনে বিশৃঙ্খলা, ঘুষ বেড়েছে

SS iT Computer

শিক্ষা ভবনে বিশৃঙ্খলা, ঘুষ বেড়েছে: শিক্ষা ভবনে অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন এখানে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী আসেন। মাঠের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে এখানে এসে নতুন করে ভোগান্তি শুরু হয় তাদের। মূল গেটেই পড়তে হয় দালাল ও আনসারের খপ্পড়ে। হাতে ব্যাগ দেখলেই নানা প্রশ্ন করেন দালাল ও আনসাররা। তারপর ‘কাজটা’ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। শুরু হয় নতুন ভোগান্তি।

বেসরকারি কলেজ শাখায় কর্মরত ‘ক’ আদ্যক্ষরের একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করিয়েছেন। এখন কদিন পরপর ওই কলেজটিতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদেরই পাঠানো হয় তদন্তে। অন্যদের দুর্নীতি খুঁজে পেলেও সহকর্মীর স্ত্রীর অনিয়মটা দেখেন না তারা। দৈনিক শিক্ষার হাতে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে এমন কথাই বলছেন কলেজটির একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী।

এই অভিযুক্ত কর্মকর্তা গত বছর একটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। বিধানে না থাকলেও এমপিও পাওয়ার পক্ষে যুক্তি লিখে মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানোর পর নানা জেরার মুখে পড়েছিলেন কলেজ শাখার এই কর্মকর্তা। ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে এখন তাদের ফোন ধরেন না। তারা অভিযোগ করেছেন দৈনিক শিক্ষার কাছে। এই কর্মকর্তা এখন ব্যস্ত শিক্ষা ক্যাডার সমিতির নির্বাচন নিয়ে। তাকে আশ্রয়-প্রশয় দেয়ার অভিযোগ গুলিবিদ্ধ ও বিতর্কিত এক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

শিক্ষা প্রকল্পে আকন্ঠ দুর্নীতির অভিযোগ সরকারি কলেজ শাখার ‘রা’ আদ্যক্ষরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চার বছর আগে তাকে বদলি করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু নতুন শিক্ষামন্ত্রী আসার পর সেই কর্মকর্তা ফিরে এসেছেন অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখায়। আরো ভালো জায়গায়। সেখানে এসিআর টেম্পারিসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সিনিয়র শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া পুলিশের চাকরি ছেড়ে শিক্ষা ক্যাডারে আসা এক তস্য জুনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, চাপ দিয়ে ঘুষ নেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আদব-কায়দার অভাবে থাকা এই কর্মকর্তাই সম্প্রতি একটি সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন। এই সভাপতির বিরুদ্ধে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকরা কয়েকডজন ভিডিও ফুটেজ ও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন দৈনিক আমাদের বার্তা ও দৈনিক শিক্ষাডটকম অফিসে। ভয়ে তারা নাম প্রকাশও করতে চান না। অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানার চেষ্টা করলে এই কর্মকর্তার কক্ষটি বন্ধ পাওয়া যায়। দিনের পর দিন অফিস সময়ে কক্ষটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফোনও রিসিভ করেননা। সহকর্মীরা তাকে পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি রতনের সুপারিশে অধিদপ্তরে বদলি হলেও রতনের সঙ্গে আর ‍যোগাযোগ না রাখার। কিন্তু রতনকে প্রতিদিন রিপোর্ট করেন তিনি। সম্প্রতি রতনকে এড়িয়ে চলছেন শিক্ষা ক্যাডারের অনেকেই। ‘খামোখা শিক্ষক’ হিসেবে শিক্ষা প্রশাসনে পরিচিতি এই বেসরকারি রতন।

অপশাসনের আরেক নজির। তিন মাস আগে বদলি করা হয়েছিলো অধিদপ্তরের বেদরকারি শাখার উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত মইনুলকে। কিন্তু বদলির আদেশের তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়তে তিনি। এই শাখায় বসে সরকারের এসি-লাইট-ফ্যান খরচ করে জমি বিক্রির দালালি করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শিক্ষা ক্যাডারের সাইফুল্লাহসহ কয়েকজন অহেতুক পদায়ন নিয়েছেন অধিদপ্তরের মাদরাসা শাখায়। পাঁচ বছর আগে মাদরাসার আলাদা অধিদপ্তর হয়েছে। তবুও এই শাখায় ডজন ডজন শিক্ষককে পদায়ন। অথচ সরকারি কলেজে শিক্ষকের অভাব। তাই শিক্ষা প্রশাসনে এটা বেদরকারি শাখা হিসেবে পরিচিত।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বউ পেটানো, উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনসহ নানা অভিযোগ। বিএনপির নেতা বরখাস্ত অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার আত্মীয় এই শাখায় নিযু্ক্ত। করোনার বন্ধে খেলাধুলা বন্ধ থাকলেও খরচ ঠিকই আছে। এখানে শিবির ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী টেলিভিশন ও অনলাইনের সাংবাদিক পরিচয়ে যাওয়া আসা করেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি, পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড, সরকারি হাইস্কুল শিক্ষকদের বদলি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নাম সংশোধনসহ নানা কাজেও রয়েছে নির্দিষ্ট্ দালাল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষকদের স্বঘোষিত নেতা লাবু ও প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মেনজিস ও ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজি করা আবু তালেব রয়েছে এই চক্রে। প্রতিটি বদলিতে তিন থেকে চার লাখ টাকা লেনদেন হয়। প্রতিদিন বিকেলে আসর বসে অধিদপ্তরের নীচতলায় ।

সম্প্রতি কর্মকর্তাদের সিলেকশন গ্রেড পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সারাদেশ থেকে মোট ৩১ লাখ টাকা তুলে সেই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন লাবু কিন্তু থাকেন ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে। দণ্ডিত মেনজিসের চাকরি গাজীপুরে হলেও থাকেন ধানমন্ডিতে লাবুর পাশেই।

লাবু গংয়ের সঙ্গে যু্ক্ত বেবি নাহিদা নামের আরেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। এই চক্রে আছে সৈয়দ লিয়াকত নামের এক কোটিপতি কর্মচারী নেতা। সম্প্রতি অধিদপ্তরের ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করার গোপন ইচ্ছা ফাঁস হয়ে গেছে। প্রশাসন শাখার নজরদারিতে আছেন সৈয়দ লিয়াকত। নিজ স্ত্রীর নামে একাধিক কোম্পানী ‍খুলে সেখান থেকে কম্পিউটার, আউটসোসিংয়ে জনবল নিয়োগ দেয়া হয় শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিভিন্ন প্রকল্পে। ডিবির হাতে টাকাসহ ধরা পড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পিয়ন নাসির রয়েছে এই চক্রে। সেই নাসির এখন ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস চালিয়ে দেন। এমপিওর পাসওয়ার্ড শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়া অন্যকারো হাতে না থাকার কথা থাকলেও তা নাসিরের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। নাসিরকে যাবতীয় শেল্টার দেয়ার অভিযোগ সৈয়দ লিয়াকতের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ লিয়াকত সব অস্বীকার করেন।

সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সফটওয়ার কিনে ১৮০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তাকে ওএসডি ও বরখাস্ত করার কথা ছিলো। আজ হবে কাল হবে কিন্তু হয়নি। তিনি অবসরে গেছেন। গত প্রায় দুই বছর ধরে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।

কলেজ শাখার পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ কেলেংকারি রয়েছে।

কদিন পরপর দুদকের কর্মকর্তারা আসলেও কোনো পরিবর্তন নেই।

নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ যোগদান করবেন কদিন পরে। তার কাছে লাখ লাখ শিক্ষকের অনেক অনেক আশা।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.