শিক্ষক কোন্দলে ২ বছরেও ফল পায়নি শিক্ষার্থীরা - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

শিক্ষক কোন্দলে ২ বছরেও ফল পায়নি শিক্ষার্থীরা

SS iT Computer

শিক্ষক কোন্দলে ২ বছরেও ফল পায়নি শিক্ষার্থীরা: তীব্র সেশনজটে পড়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এখনো তারা আটকে আছে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে। আর অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষকদের কোন্দল।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিলম্ব করেই শুরু হয়েছিল ওই বিভাগের শিক্ষাবর্ষটির দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা। যার শেষ হয় একই বছরের অক্টোবর মাসে। পরীক্ষা শেষের তিন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই নিয়মের তোয়াক্কাই করেনি বিভাগের শিক্ষকেরা। বিভাগের ৫টি ব্যাচের কোনোটির সঙ্গেই মানা হয়নি এই নিয়ম। বছরের পর বছর আটকে থাকে বিভাগটির বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ফল। ফল প্রকাশের বিড়ম্বনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বারবার বিভাগটির প্রধান ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে গেলেও কোনো সমাধান পায়নি। শিক্ষকদের দুটি অংশের কোন্দলই সংকট বৃদ্ধি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি শিক্ষক নকিবুল হাসান খান ও আশরাফ আলী সিদ্দিকীর দ্বন্দ্বেই বিভাগটিতে সংকট বাড়ছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ফল প্রকাশেও অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে নকিবুল হাসান খানের বিরুদ্ধে। এমনকি উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও কাজ করাতে পারেননি তাকে দিয়ে। কমিটিতে নকিবুল ইসলামের অসহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন আরেক শিক্ষক এস বিপুলেন্দু বসাক। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জায়গায় সবটা দিয়ে চেষ্টা করি। সকলের সহযোগিতা পেলেই কেবল সম্ভব এই সমস্যার সমাধান। কেউ একজন অসহযোগিতা করলেই আটকে যায় সকল কাজ। আমাদের অভন্তারীণ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত।

অভিযোগের বিষয়ে নকিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আন্দোলনের মুখে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় একটি ল্যাব কোর্সের পরীক্ষা ৬ মাস পর নিয়েছিলেন নকিবুল হাসান। বিভাগটির প্রধানও পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন সময়মতো না করা এবং বিভাগের সভায় অংশ না নেওয়ার মতো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করেছেন। বিভাগটিতে সেশনজটের চিত্র এখন ভয়াবহ। বর্তমানে ২য় বর্ষে চলমান রয়েছে ৩টি শিক্ষাবর্ষের ১১১ শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিভাগটির শিক্ষক এফ কে সায়মা তানজিয়া বলেন, আমি কিছু করিনি। ভিসি স্যারই সব করেছেন। তিনিই ব্যবস্থা করবেন। আমরা বসে নেই। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় পাবলিকের করার কী আছে? ফোন রাখেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা।

তবে বিভাগটির বর্তমান প্রধান আশরাফ আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। আমার একার দায় না। আমাকে সহযোগিতা করে না। মিটিং ডাকলে আসেন না নকিব সাহেব, তানজিয়া ম্যাডাম।’

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হালিম বলেন, বিভাগটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বিলম্ব হয়েছে। আমাদের এখানে কিছু করার নেই।”

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.