রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

SS iT Computer

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ: সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রতিটি হলে ছাত্রীদের সান্ধ্য আইন মেনে চলা, ছাত্রদের শীতকালে রাত ৯টার মধ্যে হলে প্রবেশ, হল কর্তৃপক্ষকে অবগতি করা ব্যতীত হলে অনুপস্থিত না থাকা, প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত কোনো সংগঠনে যুক্ত না হওয়াসহ ১৭টি নির্দেশনা সংবলিত একটি নোটিশ টানানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-৭৩ এ উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এসব নির্দেশনার অধিকাংশই এখন আর চলে না। এসব নিয়মের মাধ্যমে প্রশাসন ক্ষমতা দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের তাদের সুবিধামতো ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রশাসন বলেছে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তারা এসব আইনকে ‘স্মরণ’ করিয়ে দিচ্ছেন।

প্রক্টর দপ্তরের জারি করা নোটিশের মধ্যে কয়েকটি নির্দেশনা হলো- শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, হল সংসদ এবং বিভাগীয় সমিতি ব্যতীত কোনো ক্লাব বা সমিতি বা ছাত্র সংগঠন গঠন করতে পারবে না; প্রক্টরের পূর্বানুমতি ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মিটিং, পার্টি বা আপ্যায়ন অথবা বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রক্টরের নির্দেশনায় হলের আবাসিক ছাত্রীদের সান্ধ্য আইন মেনে চলতে বলা হয়েছে। এই আইনে ছাত্রীদের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এবং মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নিজ নিজ হলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

প্রক্টর দপ্তরের এই নির্দেশনার পর শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসব আইন মানা যায় না। সান্ধ্য আইন এখন চলে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, এই নোটিশের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কোণঠাসা করে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহারের রাস্তা উন্মোচন করতে চাচ্ছে। তাই প্রশাসনের এই নোটিশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, ‘আইনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশেই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীণ শিক্ষার্থীরা এসেছে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম জানাতে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ছাত্রদেরও নিয়ম স্মরণ করানো হচ্ছে।’

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.