মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না চাটমোহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না চাটমোহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

SS iT Computer

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না চাটমোহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে: ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড ও ল্যাপটপে কনটেন্ট তৈরি করে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ছবিসহ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে, হবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির ছোঁয়া পাবে শিশু শিক্ষার্থীরা-এমন ভাবনা থেকেই চাটমোহর উপজেলার দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, প্রজেক্টর স্ক্রিন এবং মডেম দেওয়া হয়। অথচ শিক্ষকদের অবহেলায় স্কুলগুলোতে এসব শিক্ষা উপকরণ থাকলেও নেওয়া হচ্ছে না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার এসব সরঞ্জাম প্রধান শিক্ষকরা রাখছেন বাক্সবন্দি করে। কেউ বা ব্যবহার করছেন নিজের ব্যক্তিগত কাজে। পরিত্যক্ত বা যত্রতত্র রাখা এবং নিজেদের কাজে ব্যবহারের কারণে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর। যে কারণে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিশু শিক্ষার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। আর যাদের দেখভাল করার কথা সেই উপজেলা শিক্ষা অফিস এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। সরেজমিন বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন নানা তথ্য।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে মনোযোগী করে তোলার এমন ভাবনা থেকেই ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অ্যাডুকেশন ডেভেলপন্টে প্রোগ্রামের (পিইডিপি-৩ ও ৪) আওতায় চারটি ধাপে উপজেলার ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেল, লেনোভো ও এইচপি কোম্পানির দামি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। দেওয়া হয় প্রজেক্টর, মডেম ও প্রজেক্টর স্ক্রিন। প্রতিটি স্কুল থেকে একজন শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে ১২ দিনের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। শুরুর দিকে সেসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে উপজেলার ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ স্কুলের ল্যাপটপগুলো এখন অকেজো। হদিস নেই মডেমের।

প্রজেক্টর ও প্রজেক্টর স্ক্রিনগুলো ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়েছে। স্কুলে না রেখে অনেক শিক্ষক নিজের বাড়িতে ল্যাপটপ রেখেছেন। করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকায় ল্যাপটপগুলো ‘আশীর্বাদ’ হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের কাছে। কারণ অনেক শিক্ষকের সন্তানরা সরকারি ওই ল্যাপটপ দিয়ে গেমস খেলে দিন পার করেছে।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না হলেও মডেম নষ্ট দেখিয়ে স্লিপ ফান্ডের টাকা দিয়ে আবারও মডেম কেনা হয়েছে বলে বিল-ভাউচার দেওয়া হয়েছে। অনেক স্কুলে ব্যবহার না করার ফলে অকেজো হয়ে পড়েছে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর। এদিকে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সম্পর্কে পিটিআই থেকে যেসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকেরই প্রশিক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। প্রশিক্ষিত সেসব শিক্ষক কীভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে হয়ে সেটা জানেন না।
এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রধান শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, করোনার কারণে দেড় বছর স্কুল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ল্যাপটপ বাসায় রাখা হয়েছিল বা এখনো রাখা হয়। কিছু কিছু শিক্ষক নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করায় এবং যত্নের অভাবে নষ্ট হয়েছে ল্যাপটপগুলো। এছাড়া শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে তাদের যে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব স্কুলে ল্যাপটপ নষ্ট হয়েছে তার একটি তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্কুলগুলোতে ল্যাপটপ রাখা অনিরাপদ। যে কারণে শিক্ষকরা বাসায় নিয়ে যান। তবে কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকলে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে শনিবার বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনসুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সংযোগ কেটে দিয়ে ইমোজিসহ এ প্রতিবেদককে আপত্তিকর একটি মেসেজ পাঠান। সেখানে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ‘ক্যান নট টক নাউ। সেক্সি। হোয়াটস আপ।’

এরপর ঘণ্টাখানেক পর এ মসেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পকেট থেকে মোবাইল করতে গিয়ে কেটে গিয়েছিল। মেসেজ আমি লিখি নাই। আমি তখন হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ পড়ছিলাম। আমার অজান্তে কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে।’ আর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যাপারে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুরেই কথা বলেন।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.