‘বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে’ এসএসসি, ক্ষতিপূরণে এ প্লাস দাবি - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

‘বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে’ এসএসসি, ক্ষতিপূরণে এ প্লাস দাবি

SS iT Computer

‘বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে’ এসএসসি, ক্ষতিপূরণে এ প্লাস দাবি: পরীক্ষার হলে দেওয়া প্রশ্নপত্রে সময় ও নম্বর বিভ্রান্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিভ্রান্তিতে তারা কম নম্বর পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফের পরীক্ষা নেওয়ার বা কাঙিক্ষত আশি শতাংশ নম্বর দেওয়ার দাবি করছেন। আর আগে ছাপা হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা, হতাশ শিক্ষকরা। প্রশ্নপত্রে এমন নজিরবিহীন ঘটনা থাকবে তা গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে ব্যর্থ শিক্ষা প্রশাসনকেও দূষছেন তারা। নতুন করে প্রশ্ন ছাপানোর সামান্য খরচ বাঁচাতে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার দায় শিক্ষা প্রশাসনকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া ভুল সেট কোড ও কেন্দ্র সচিবদের উদাসীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

গত দুইদিনে ঢাকা-যশোর-রাজশাহী বোর্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডে পুরনো প্যাটার্নের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা দেড় ঘণ্টা হওয়ার কথা থাকলেও এ দু’দিনে অনুষ্ঠিত এসএসসির তিনটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেই সময় উল্লেখ ছিল আড়াই ঘন্টা। গতকাল সোমবার সকালে মানবিক বিভাগের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষায় তিনটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিল পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা। এ পরীক্ষার নৈব্যাক্তিক অংশে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও প্রশ্নপত্রে ছিল ৩০টি প্রশ্ন। কয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সে বিষয়েও নির্দেশনা ছিল না প্রশ্নে। এদিকে সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হিসাববিজ্ঞানের প্রশ্নেও ছিল একই ধরণের বিভ্রান্তি। গত রোববার প্রথম দিনে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাতেও একই বিভ্রান্তি দেখা যায়। যদিও রুটিন দেওয়ার সময় এবং শিক্ষামন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন দেড় ঘন্টা পরীক্ষা হবে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে মত শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের।

গত রোববার প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার খবরে গতকাল সোমবার শিক্ষক ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা একটু সচেতন হয়েছেন। তাই সোমবার কেন্দ্রগুলো শিক্ষার্থীরা কিছুটা কম বিভ্রান্ত হয়েছেন। এ দিন সকাল ও দুপুরের পরীক্ষার আগে কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার্থীদের কয়টি প্রশ্নে উত্তর দিত হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। যদিও গত রোববার এ বিভ্রান্তি ছিল চরমে। প্রথম দিনের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী এ বিভ্রান্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি অভিভাবকদের। অনেক কেন্দ্রে শিক্ষকরাই ধমক দিয়ে বলেছেন, ‘প্রশ্নে যা লেখা আছে তাই লিখতে হবে।’ কিন্তু পরে যখন শিক্ষকরা বুঝতে পেরেছেন তাদের উদাসীনতায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তখন তারা দায় এড়িয়েছেন।

বিভ্রান্তকর প্রশ্নপত্রেই চলছে পরীক্ষা :

অভিভাবকরা এ ধরণের প্রশ্নকে বিভ্রান্তমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘বোর্ডগুলো প্রশ্ন ছাপানোর কিছু টাকা বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।’ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে অভিভাবকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীদের কাঙিক্ষত নম্বর দিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার সকালে মানবিক বিভাগের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের পরীক্ষা ও দুপুরে হিসেব বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা দৈনিক আমাদের বার্তাকে পরীক্ষা শেষে প্রশ্ন দেখিয়েছেন। তারা জানান, সোমবারও প্রশ্ন বিভ্রান্তিকর ছিল। কিন্তু কক্ষ পরিদর্শকরা অনেকটা সচেতন ছিলেন। তারা প্রশ্ন দেওয়ার আগেই আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আর নৈব্যাক্তিক পরীক্ষার আগে বলা হয়েছে ১৫টি উত্তর দিতে।

পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল ও দুপুরের দুই পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে সময় উল্লেখ ছিল ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। যদিও রোববারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিদর্শকরা দেড় ঘণ্টা পরীক্ষার সময়ের বিষয়েও পরীক্ষার্থীদের শুরুতেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বিভ্রান্তি কম হয়েছে।

পরীক্ষার বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ওই উপজেলার একটি কেন্দ্রের সচিব নাম না করার শর্তে বিকেলে দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, সোমবারও প্রশ্নও আগের প্যাটার্নে ছিল। কিন্তু রোববারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা শুরুতেই পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করেছি। সোমবার তেমন একটা বিভ্রান্তি ছিল না কেন্দ্রে।

প্রশ্নের নির্দেশনা বিভ্রান্তিমূলক স্বীকার করে ওই কেন্দ্রেসচিব আরও বলেন, ‘প্রশ্নে লেখা ৫টি প্রশ্নে উত্তর দিতে হবে, আর বাস্তবে তিনটি প্রশ্নে উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নের নির্দেশনা পাবলিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার ব্যাক্তিগত মতামত এ ধরনের প্রশ্নে বিভ্রান্ত না হওয়ার সুযোগই আসলে কম আছে।’

এদিকে সোমবার দুপুরে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবকদের অনেকেই প্রশ্ন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। রাজধানীর বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষারত একজন অভিভাবক দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, গতকাল পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে বলে শুনেছি। সোমবার কমার্সের পরীক্ষা শুরু হলো। বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে। আমরা উদ্বিগ্ন কেমন পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নের নির্দেশনাতেও বিভ্রান্তি ছিল। প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিল ক বিভাগ থেকে যে কোনো দুইটি ও খ বিভাগ থেকে যে কোন পাঁচটিসহ মোট সাতটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার। কিন্ত কক্ষ পরিদর্শকদের নির্দেশনায় আমরা যেকোন তিনটি প্রশ্নে উত্তর দিয়েছি। নৈব্যাক্তিক প্রশ্নপত্রে ৩০টি প্রশ্ন থাকলেও কয়টির উত্তর দিতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা ছিল না। তবে কক্ষ পরিদর্শকরা আগেই জানিয়েছেন পরীক্ষা দেড়ঘণ্টা, তিনটি সৃজনশীল উত্তর দিতে হবে এবং নৈব্যাক্তিক ১৫টির উত্তর দিতে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়েছি।

এদিকে রোববার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের দাবি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশে দুইটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নের নির্দেশনায় বলা ছিল পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা। পরীক্ষার সময় ছিল ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। এতে আমার বিভ্রান্ত হয়। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্ন হাতে পেয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করেন। পরে কক্ষ পরিদর্শকরা তাদের দুইটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে বলেন। কিন্তু প্রশ্নের লেখা নির্দেশনা ও কক্ষ পরিদর্শকের নির্দেশনা আলাদা হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীই বিভ্রান্ত হয়ে যান। আর প্রশ্নে ২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট সময় লেখা থাকায় অনেক পরীক্ষার্থীই পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিভ্রান্তিকর এ প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন বলছে, আগে প্রশ্ন ছাপার কাজ হয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। প্রশ্নে যাই নির্দেশনা থাকুক না কেন শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে পরীক্ষায় কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং পরীক্ষার সময় কত সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি কর্মকর্তাদের। তাই পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছেন তারা।

পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে দেখা গেছে, দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও এসএসসির প্রথম দিনে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে সময় উল্লেখ ছিল ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। যদিও শিক্ষার্থীদের দেড় ঘণ্টায় সময়ই পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে এসএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করেন প্রশ্নপত্রে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট উল্লেখ থাকলেও তারা দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়েছেন। কোনো কোনো পরীক্ষার্থী সময় বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলে ধমক দেওয়া হয়। এতে মন খারাপ হয় অনেক পরীক্ষার্থীর।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্ল্যাওয়ার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ‘আমার সন্তানের পরীক্ষার প্রশ্নের লেখা ছিলো আড়াই ঘন্টা কিন্তু বাস্তবে ছিলো দেড় ঘন্টা। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর ছাত্ররা এ বিষয়ে জানতে চাইলে রীতিমতো ধমক দেওয়া হয়।যেহেতু প্রি-টেস্ট ও টেস্ট ছাড়া হঠাৎ করে এত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় বসেছে, সেহেতু একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলো।

গত রোববার রাতে মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, সৃজনশীল অংশে প্রশ্নপত্রের ওপরে নির্দেশনায় লেখা ছিল, যেকোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পুরো প্রশ্নতে মোট আটটি সৃজনশীল প্রশ্ন ছিল। আমরা আগেই জানতাম দুইটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমার সন্তানও সেটা জানতো। কিন্তু প্রশ্নে পাঁচটি উত্তর দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কক্ষ পরিদর্শকরা দুইটি উত্তর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দুই রকম নির্দেশনায় পরীক্ষার্থীরা আরও বেশি বিভ্রান্ত হন। নৈর্ব্যক্তিক অংশে ১২টি প্রশ্নের উত্তর দেঅয়ার কথা থাকলেও মোট প্রশ্ন ছিল ২৫টি।

ক্ষতিপূরণ চান অভিভাবকরা, পদার্থবিজ্ঞানে সবাইকে এ প্লাস দেওয়ার দাবি :

অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নকেও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ছোটখাট বিভ্রান্তিতে অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসাথে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবকরা বলছেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাই, এ বিষয়ের সব পরীক্ষার্থীকেই কাঙ্ক্ষিত এ প্লাস দিয়ে দেওয়া অথবা ফের পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টাকা বাঁচাতে এ বিভ্রান্তি :

দুই দিনে এসএসসির তিনটি পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন সরবরাহ করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের একটি কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন প্রবীণ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ‘বোর্ড টাকা বাঁচাতে চেয়েছে বলেই এমনটি হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যে নির্দেশনা সেই নির্দেশনাটি আসলে পরীক্ষার্থীদের কাছে মূল। বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের পরীক্ষা নিলে তারাতো বিভ্রান্ত হবেই। বোর্ডগুলোর উচিত ছিল একটু টাকা খরচ হলেও নতুন করে প্রশ্ন ছাপানো। পুরো প্রশ্ন তৈরিও করা লাগতো না, আগের প্রশ্নটি সংশোধন করে ছাপানো যেতো। যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে তা শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার ফল।’

এদিকে ঢাকা জেলার একটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহামারি পেরিয়ে আমরা যে পরীক্ষা নিতে পারছি সেটি বড় পাওয়া। অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই রোববার বিভ্রান্তি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন নতুন করে ছাপানোর সময় মনে হয় বোর্ডের ছিলনা। তবুও পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রের নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ড আগে কয়টি প্রশ্ন লিখতে হবে সে নির্দেশনা দিয়েছে। আমি মনে করি তখনই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন ছিল যে প্রশ্নে নির্দেশনা পরীক্ষার নির্দেশনা নয়। এটি বোর্ডগুলো করেনি।

তিনি আরও বলেন, আসলে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা অস্বীকার করার মতও না। কারণ তারাও কোন নির্দেশনা পাননি। সংক্ষিপ্ত এসএসসি পরীক্ষা এই প্রথম। তারা কোনো টেস্ট পেপারেও এমন প্রশ্ন দেখেনি। তবে, রোববারের চেয়ে সোমবার শিক্ষার্থীরা কম বিভ্রান্ত হয়েছেন। তবে, বোর্ডগুলো যদি একুট সচেতন হতো এ দূরাবস্থা এড়ানো যেতো।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র এ বিষয়ে দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ছিল। সেই প্রশ্ন পরবর্তীতে আর বাতিল করা হয়নি। তাই পুরোনা প্যাটার্নের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কয়টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে সেটি নোটিশের মাধ্যমে আগেই শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। একাধিকবার বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত সাড়ে ২৩ হাজার, বহিষ্কার তিন :

এসএসসির দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা দেননি সারাদেশের ২৩ হাজার ৫৫৩ জন পরীক্ষার্থী। এ দুই পরীক্ষায় মোট তিনজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে, কোন কক্ষপরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।

গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ৭৩৩ জন পরীক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় সারাদেশে দুইজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। আর দুপুরে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা দেননি ৫ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ দৈনিক আমাদের বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন সকালে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ৪ হাজার ২৩ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৫৬৬ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ হাজার ৭৬৭ জন, বরিশাল বোর্ডের ১ হাজার ৩৪২ জন, সিলেট বোর্ডের ১ হাজার ৪৮ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ১ হাজার ৬৯৪ জন, কুমিল্লা বোর্ডের ২ হাজার ৯৫২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ১ হাজার ১৪৮ জন এবং যশোর বোর্ডের ১ হাজার ৮১৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এ পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের একজন ও বরিশাল বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় কোনো কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার হয়নি।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন দুপুরে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ২ হাজার ৯৪ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৪১ জন, রাজশাহী বোর্ডের ১০৬ জন, বরিশাল বোর্ডের ৩১৫ জন, সিলেট বোর্ডের ১১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ৪৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডের ১ হাজার ৮২৩ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ১৩৮ জন এবং যশোর বোর্ডের ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এ পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় কোনো কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার হয়নি।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল দশটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এসএসসির রসায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একইসময়ে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের ট্রেড-১ দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। মঙ্গলবার দাখিলের কোনো পরীক্ষা নেই।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.