বিচারপতি রেজাউল হাসান আলোচনায়: সেই বিএমডব্লিউ ছেড়ে মালিককে খুঁজছে পুলিশ! - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

বিচারপতি রেজাউল হাসান আলোচনায়: সেই বিএমডব্লিউ ছেড়ে মালিককে খুঁজছে পুলিশ!

SS iT Computer

বিচারপতি রেজাউল হাসান আলোচনায়: সেই বিএমডব্লিউ ছেড়ে মালিককে খুঁজছে পুলিশ! রাজধানীর বনানীতে নারী সার্জেন্টের বাবাকে চাপা দেওয়া বিএমডব্লিউ গাড়িটি পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। তবে এখন সেটি খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে মামলা নেওয়ার পর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা আলামত হিসেবে বিএমডব্লিউটি জব্দের চেষ্টা করছেন। এদিকে বিচারপতি রেজাউল হাসানের নাম চলে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান গাড়ীটি চালাচ্ছিলেন।

যদিও দুর্ঘটনার পরপরই পথচারীরা সেই গাড়ি ও এর চালকসহ যাত্রীদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও প্রভাবশালীদের চাপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি একজন পুলিশ কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে চাপা দেওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি। পরে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মামলা নিতে বাধ্য হয় বনানী থানা পুলিশ।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকার চেয়ারম্যানবাড়ি সড়কে একটি দ্রুতগতির বিএমডব্লিউ গাড়ির চাপায় আহত হন মনোরঞ্জন হাজং। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থার কারণে অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এরপর তাকে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মনোরঞ্জন হাজং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার। তার মেয়ে মহুয়া হাজং ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত। দুর্ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে নেয়নি। এমনকি ঘটনার পর পথচারীরা চাপা দেওয়া সেই বিএমডব্লিউ গাড়ি ও এর চালকসহ অন্য যাত্রীদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও তারা ছাড়া পেয়ে গেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিএমডব্লিউ গাড়িতে চালকের আসনে ছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে সাইফ হাসান। তার স্ত্রী অন্তরা সাইফ আর বন্ধু রোয়াদও গাড়িতে ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই প্রভাবশালীদের চাপে সাইফসহ গাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। একইসঙ্গে তারা মহুয়া হাজংয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আপসের চেষ্টা চালায়। কিন্তু মহুয়া হাজং মামলার বিষয়ে অটল থাকায় এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও বিচারপতির ছেলে বলে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে বনানী থানা পুলিশ মহুয়া হাজংয়ের মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করলেও আসামিদের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হিসেবে দেখান। এজাহারে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৯৮ ধারায় বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর অপরাধে চালকের অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর ১০৫ ধারায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বা কেউ মারা গেলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে।

মামলা নিয়ে মুখ খুলে চাপে পড়েছেন খোদ বাদী মহুয়া হাজং। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে মৌখিকভাবে নিষেধ করেছেন। এ কারণে মামলা ও তদন্ত প্রসঙ্গে তার কোনও বক্তব্য জানা যায়নি।

বিএমডব্লিউটির মালিক কে?

আলোচিত এই সড়ক দুর্ঘটনায় বিএমডব্লিউ গাড়িটির মালিকানা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গাড়িটি বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে সাইফ হাসান চালাচ্ছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর তার অভিভাবকের জিম্মাতেই গাড়িটি দেওয়া হয়েছিল। তবে গাড়িটির প্রকৃত মালিক কে তা জানাতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা অনুসন্ধান করে গাড়িটির মালিক কে তা জানার চেষ্টা করছেন। তবে স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় পুলিশের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো ঘ-১৫-৪৯০৬ সিরিয়ালের বিএমডব্লিউ গাড়িটি আইডিএলসির নামে নিবন্ধন করা। আইডিএলসি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বিএমডব্লিউ গাড়িটি আইডিএলসি থেকে ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছে। তবে কে এবং কত টাকা ঋণ নিয়ে গাড়িটি কিনেছিলেন তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.