পরীক্ষা দেরিতে হওয়ায় আগামী বছর তা সমন্বয় করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

পরীক্ষা দেরিতে হওয়ায় আগামী বছর তা সমন্বয় করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

SS iT Computer

পরীক্ষা দেরিতে হওয়ায় আগামী বছর তা সমন্বয় করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আট মাস দেরিতে শুরু হওয়ায় আগামী বছর তা সমন্বয় করা হবে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এখন মহামারি চলছে। মহামারির কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছু থমকে গেছে। তার মধ্যে আমরা যে এই পাবলিক পরীক্ষাগুলো নিতে পারছি সেজন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের করোনা পরিস্থিতিকে সামাল দিয়েছেন, আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সবাই যেভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এখন পরীক্ষা দিতে যত সময় দেরি হয়েছে পরবর্তী সময়ে আমরা তা সমন্বয় করবো। কারও অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ। আগামী বছরের পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এ বছরের মতো এত দেরি হবে না বলে জানান তিনি।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটওয়ারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈনুল হাসান, হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিপূরণ চান অভিভাবকরা, পদার্থবিজ্ঞানে সবাইকে এ প্লাস দেওয়ার দাবি :

অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নকেও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ছোটখাট বিভ্রান্তিতে অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসাথে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। অভিভাবকরা বলছেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাই, এ বিষয়ের সব পরীক্ষার্থীকেই কাঙ্ক্ষিত এ প্লাস দিয়ে দেওয়া অথবা ফের পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টাকা বাঁচাতে এ বিভ্রান্তি :

গত দুই দিনে (রোববার ও সোমবার) এসএসসির তিনটি পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন সরবরাহ করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের একটি কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন প্রবীণ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ‘বোর্ড টাকা বাঁচাতে চেয়েছে বলেই এমনটি হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যে নির্দেশনা সেই নির্দেশনাটি আসলে পরীক্ষার্থীদের কাছে মূল। বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের পরীক্ষা নিলে তারাতো বিভ্রান্ত হবেই। বোর্ডগুলোর উচিত ছিল একটু টাকা খরচ হলেও নতুন করে প্রশ্ন ছাপানো। পুরো প্রশ্ন তৈরিও করা লাগতো না, আগের প্রশ্নটি সংশোধন করে ছাপানো যেতো। যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে তা শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার ফল।’

এদিকে ঢাকা জেলার একটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহামারি পেরিয়ে আমরা যে পরীক্ষা নিতে পারছি সেটি বড় পাওয়া। অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই রোববার বিভ্রান্তি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন নতুন করে ছাপানোর সময় মনে হয় বোর্ডের ছিলনা। তবুও পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রের নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ড আগে কয়টি প্রশ্ন লিখতে হবে সে নির্দেশনা দিয়েছে। আমি মনে করি তখনই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন ছিল যে প্রশ্নে নির্দেশনা পরীক্ষার নির্দেশনা নয়। এটি বোর্ডগুলো করেনি।

তিনি আরও বলেন, আসলে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা অস্বীকার করার মতও না। কারণ তারাও কোন নির্দেশনা পাননি। সংক্ষিপ্ত এসএসসি পরীক্ষা এই প্রথম। তারা কোনো টেস্ট পেপারেও এমন প্রশ্ন দেখেনি। তবে, রোববারের চেয়ে সোমবার শিক্ষার্থীরা কম বিভ্রান্ত হয়েছেন। তবে, বোর্ডগুলো যদি একুট সচেতন হতো এ দূরাবস্থা এড়ানো যেতো।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র এ বিষয়ে দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ছিল। সেই প্রশ্ন পরবর্তীতে আর বাতিল করা হয়নি। তাই পুরোনা প্যাটার্নের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কয়টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে সেটি নোটিশের মাধ্যমে আগেই শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। একাধিকবার বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.