নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকানো সাত ছাত্রী প্রতিষ্ঠিত হতে চান - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকানো সাত ছাত্রী প্রতিষ্ঠিত হতে চান

SS iT Computer

নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকানো সাত ছাত্রী প্রতিষ্ঠিত হতে চান: সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন। সে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের হাউসেরহাট গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। বাবা পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক। এরপরও লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। অল্প বয়সে বিয়ে করার মোটেও ইচ্ছে নেই তার। স্বপ্ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার। শিক্ষকতা করেই সুশীল মানুষ গড়তে চায় এই কিশোরী।

কিন্তু দারিদ্র তার সে স্বপ্ন ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক সময় বাবা মায়ের বাধ্যবাধকতায় বিয়েও ঠিক হয় তার। পাত্রপক্ষও সেজেগুজে চলে আসেন বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু অনড় জান্নাতী। এত কম বয়সে কোনোমতেই বিয়ে করবে না সে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে জীবনকে রঙিন করতে চায় এ কিশোরী। তাই নিজের বিয়ে নিজেই ভেঙে দেয় এক সময়। এখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে জান্নাতী। স্বপ্নের শীর্ষ চূড়ায় উঠতে চায় সে।

এমন স্বপ্ন জান্নাতীসহ আরও ৬ কিশোরীর। তারাও ঠেকিয়েছে নিজের বাল্য বিয়ে। এদের কেউ দশম শ্রেণিতে কেউ নবম শ্রেণিতে, আবার কেউ দেবে এসএসসি পরীক্ষা। তবে কারোরই ইচ্ছে নেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার। তাদের প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান নিজ নিজ যোগ্যতায়।

এ বিষয়ে কথা হয় ভিতরবন্দ ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকার আবুবক্কর সিদ্দিকের মেয়ে মিনু আক্তারের সাথে। ভিতরবন্দ জেডি একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্রী সে। বাড়ি থেকে তার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল পরিবারের লোকজন। কিন্তু বিয়ে করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় মিনু। প্রতিবাদ করে ঠেকায় নিজের বাল্য বিয়ে।

মিনু দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘যার যার যোগ্যতা তার তার কাছে। আমি আমার নিজ যোগ্যতায় বড় হতে চাই। কারও উপর নির্ভরশীল হতে চাই না।’

একই কথা বলেন গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও পূর্ব সরকারটারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা, গোপালপুর মন্ডলটারী গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে ও নেওয়াশী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আলেয়া খাতুন, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের শামছুল আলম সরকারের মেয়ে ও বেরুবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সীমা খাতুন, রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ এলাকার খায়রুল আলমের মেয়ে ও নাখারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী খালেদা খাতুন এবং রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ইদ্রিস আলীর মেয়ে ও রায়গঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ইশফা খাতুন।

করোনার সময়ে নিজের বাল্য বিয়ে নিজেরাই ঠেকানো সাহসী এই সাত ছাত্রীকে সম্মাননা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জাকিয়া সুলতানা বুবলীর অর্থায়নে এবং সিডা ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায়, আরডিআরএস বাংলাদেশ বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস (বিবিএফজি) প্রজেক্টের সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় যুব দিবসের এক অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের সম্মাননাসহ শিক্ষা উপকরণ, নগদ অর্থ ও মনিষীদের বই উপহার দেওয়া হয়।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.