ঢাবি হলে বিবাহিত ছাত্রীর আসন বাতিল বৈষম্যমূলক - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

ঢাবি হলে বিবাহিত ছাত্রীর আসন বাতিল বৈষম্যমূলক

SS iT Computer

ঢাবি হলে বিবাহিত ছাত্রীর আসন বাতিল বৈষম্যমূলক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহিত ছাত্রীদের আবাসিক হলের আসন বাতিল করার নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজন। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। এ আইনের কারণে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবাহিত ছাত্রী তার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মেয়েদের ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায় বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ ‘মৌলিক অধিকার’ অনুসারে, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেই মৌলিক অধিকারের মালিক। এর ২৬নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না। আর যদি করা হয়, তবে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল হয়ে যাবে। মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি আগের সব আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, এক শিক্ষার্থীর বিয়ে হলে তার আসন বাতিল করা হবে- এ সিদ্ধান্ত সভ্য সমাজের জন্য নয়। এটি নিঃসন্দেহে সংবিধানবিরোধী।

আমরাই পারি (উই ক্যান) পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের নির্বাহী সমন্বয়ক জিনাত আরা হক বলেন, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য বিয়ের আইনি বয়স মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এমনিতেই মেয়েদের শিক্ষায় বাবা-মায়েরা তেমন কোনো গুরুত্ব দেন না। নানা প্রতিবন্ধকতা ঠেলে তারা লেখাপড়া করতে চায়। যেখানে আইনে ১৮ বছরে বিয়ের অনুমোদন রয়েছে, সেখানে শুধু ‘বিবাহিত’ হওয়ার কারণে সিট বাতিল করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রকাশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক-গবেষক কাবেরী গায়েনের মতে, ‘এটা কোনো সভ্য নিয়ম হতে পারে না। দ্রুত এই নিয়মের অবসান হওয়া দরকার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাঁচটি হলে আসন বণ্টনসম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মনজুন নাহার বলেন, যারা হলে থাকতে আসেন, রাজধানীতে তাদের থাকার জায়গা নেই বলেই আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থী বলেই সিট পান তারা। সিট পাওয়ার বিষয়টি এভাবেই দেখা উচিত। তিনি বিবাহিত ছাত্রীদের সিট বাতিলের নিয়ম বাতিল করার দাবি জানান।

‘উই ক্যান’-এর আইনজীবী সুরাইয়া পারভীন বলেন, এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। একজন ছাত্রী বিবাহিত কিংবা ‘গর্ভবতী’ হলেও তিনি শিক্ষার্থী। অন্য একজন শিক্ষার্থী যদি হলে সিট পেতে পারে, একজন গর্ভবর্তী ছাত্রীকেও সিট দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবীর বলেন, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কেউ বিয়ে করতে পারবে না- এমন কোনো তো আইন নেই। যদি শিক্ষার্থী অবস্থায় কেউ বিয়ে করতে পারে, তাহলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তাকে সিট দিতে বাধ্য।

সম্প্রতি ঢাবির উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বরাবর দেওয়া এক আবেদনে পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের ক্ষেত্রে থাকা নিয়মটি বাতিলসহ চার দফা দাবি জানান। উপাচার্য তখন তাদের বলেন, হল কর্তৃপক্ষ ও ডিনস কমিটির সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভা থেকে কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই নিয়মই কার্যকর থাকবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.