ঢাবিতে ছাত্রীদের কাছেই সিট ভাড়া দেয় হল প্রশাসন - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

ঢাবিতে ছাত্রীদের কাছেই সিট ভাড়া দেয় হল প্রশাসন

SS iT Computer

ঢাবিতে ছাত্রীদের কাছেই সিট ভাড়া দেয় হল প্রশাসন: হলে সিট ফাঁকা আছে, কিন্তু প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের এসব সিট বরাদ্দ দেওয়া অনিয়ম। নিয়ম হলো অনাবাসিক ছাত্রীরা ভাড়া দিয়ে সে সিটে গেস্ট হিসেবে থাকতে পারবে। তবে তার জন্য শর্ত প্রযোজ্য। হল প্রশাসনকে ‘গেস্ট চার্জ’ নামে চাঁদা দিতে হয়। তারপর ওঠা যায় হলের ঐ রুমগুলোতে। হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক ফির বাইরে এ ফি দিতে হয় ছাত্রীদের। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের অন্তত ৩০০ ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের অন্তত ৮০ শিক্ষার্থী এ অনিয়মতান্ত্রিক ফি দেন। হিসাব অনুযায়ী এ দুটি হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে ২০ লাখ টাকার চাইতেও বেশি চার্জ আদায় করা হচ্ছে।

দুই হলের ছাত্রীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিভাগে ভর্তি হতে এমনকি হলের সব ধরনের ফি পরিশোধ করতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় না তার চাইতে বেশি অর্থ খরচ হয় শুধু হলের গেস্ট চার্জ পরিশোধ করতে। হল প্রশাসনের এ ধরনের অর্থ আদায় অবৈধ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তার অজুহাতে চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ম।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হলটির মূল ভবনের ১০৮, ১০৯, ১১০ নম্বর রুম ও শিকদার মনোয়ারা ভবনের ৩২৭ নম্বর রুমটি হল প্রশাসনের অধীনে থাকা গণরুম। এসব গণরুমে ২০ জন করে মোট ৮০ জন ছাত্রী থাকে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা করে নেয় হল প্রশাসন। এর বাইরেও ছাত্রলীগ নেত্রীদের অধীনে শিকদার মনোয়ারা ভবনে ৩২১ থেকে ৩৩৫ পর্যন্ত ১৫টি, ২১৭, ১০৬ নম্বর রুমসহ মোট ১৭টি রুম রয়েছে। এসব রুমে প্রতিটিতে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রী থাকে। সব মিলিয়ে এসব রুমে ২৫০-এর বেশি ছাত্রী থাকে। তাদের প্রত্যেককে প্রতি বছর ৪ হাজার টাকা করে ফি দিতে হয়। এত টাকা ফি দিলেও মেলে না কোনো আবাসিক ছাত্রীর পরিচয়। অথচ এ ধরনের নিয়ম নেই বাকি ১৬ হলে।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের আমরা কোথায় রাখব? সিট খালি না হলে আমরা তো কাউকে সিট দিতে পারি না। সেজন্য কিছু গেস্টরুম আছে, এসব গেস্টরুমে ফি দিয়ে ছাত্রীদের থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় তাদের সিট দেওয়া হয়। আর তারা যে হলে থাকছে তার জন্যও তো হলের কিছু খরচ হয়।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ‘মোহনা’ কক্ষটি হল প্রশাসনের অধীন। ১১৯ নম্বর কক্ষ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিন ও ১২০ নম্বর কক্ষ সভাপতি কোহিনুর আক্তার রাখি। ১২১ ও ১২২ নম্বর রুম দুটি ছাত্রলীগ এবং হল প্রশাসন ভাগাভাগি করে নেয়। হল ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও হল প্রাধ্যক্ষ সমঝোতার ভিত্তিতে সিট সংখ্যা ঠিক করে নেয়। হল প্রশাসন যদি আগে বরাদ্দ দিতে পারে তাহলে হল প্রশাসনের অন্যথায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে যে আগে ছাত্রী তুলতে পারে তার ততসংখ্যক সিট হয় এসব রুমে। এ হলে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা গেস্ট চার্জ দিতে হয়। অথচ হলটির বাত্সরিক আবাসিক ফি ৮১০ টাকা। হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিন বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাকিয়া পারভিন বলেন, অনেক মেয়ে ভর্তি হতে আসলে কান্নাকাটি শুরু করে দেয় যে, তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। তাদের মা-বাবারাও এসে কান্নাকাটি শুরু করেন। তখন তাদের আমরা কোথায় রাখব? সেজন্য গেস্টরুম প্রথা চালু রেখেছি। ছাত্রীরা এ অপরিচিত শহরে নিরাপদ নয়। তবে কয়েক জন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সুপারিশ ছাড়া এসব গেস্টরুমে কোনো ছাত্রীকে সহজে বরাদ্দ দেন না হল প্রাধ্যক্ষ।

এ দুটি হলের বাইরেও ছাত্রীদের আরো তিনটি হল রয়েছে। এসব হলের একটি শামসুন্নাহার হল। এ হলে গেস্ট রাখার কোনো নিয়ম নেই। অন্য দুটি হলেও প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা উঠলে গেস্ট ফি নামক কোনো ফি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ফি নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। হল প্রাধ্যক্ষগণ বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। এ ফি কেন নেওয়া হয় তা খতিয়ে দেখা হবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.