টিকাতে সাড়া আছে নাড়া নেই -

টিকাতে সাড়া আছে নাড়া নেই

SS iT Computer
টিকাতে সাড়া আছে নাড়া নেই
নিবন্ধনে পিছিয়ে সম্মুখসারির কর্মীরা, সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

করোনাভাইরাস নির্মূলে টিকার দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো বিশ্ব। দেশে টিকা এসে পৌঁছানোর পর ছিল ব্যাপক আলোচনা। কিন্তু প্রায় ১১ কোটি মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করতে যে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। টিকার উপকারিতা সম্পর্কে না জানার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সম্মুখসারির কর্মীদের নিবন্ধন চলছে ঢিমেতালে।

টিকা ঘিরে যে আলোচনার ঝড় ছিল নিবন্ধনের তালিকায় সে রকম নাড়া দেয়নি। তাই টিকা নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপকহারে প্রচার চালানো ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করতে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠিত ক্যাম্পেইন হয়নি। সারা শহরে বিলবোর্ড নেই, বিজ্ঞাপন নেই। টিকার সুবিধা, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সরকার কী কী করবে সে বিষয়ে কোনো প্রচার নেই। টিকা দেশে এসে পৌঁছানোর পর একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এর সুবিধা ও অসুবিধা জানাতে হতো। এমনকি সুরক্ষা রেজিস্ট্রেশনটাও ঠিকমতো বোঝানো হয়নি। এসব কারণে যাদের প্রয়োজন তারাও টিকা কার্যক্রমের বাইরে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টিকা পেতে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা সম্মুখসারির কর্মীদের অনাগ্রহের কারণে নিবন্ধন চলছে ধীরগতিতে। প্রথম মাসে ৩৫ লাখ জনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। গতকাল পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার জন। এর মধ্যেই আগামীকাল শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি। নিবন্ধনে ধীরগতি দেখে টিকা কেন্দ্রে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ থেকে নিবন্ধনকারী ব্যক্তিদের মোবাইলে খুদে বার্তায় জানিয়ে দেওয়া হবে টিকা কেন্দ্রের নাম। দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছে গেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। প্রথম দিনে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে ঢাকার ৪৯ কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, নিবন্ধন কম হচ্ছে, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নিবন্ধন করেনি। প্রথম ধাপে যাদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, ব্যাংকার, সরকারি কর্মকর্তারা এখনো তেমন নিবন্ধন করেননি। আমরা প্রতিটি অফিসকে বলেছি আপনারা নিবন্ধন করুন। আমরা প্রতিটি জেলা থেকে যে পরিমাণ নিবন্ধন করতে বলেছি তা এখনো করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা মিটিং করে সব জেলার ডিসি, এসপিকে বলেছি নিবন্ধন করতে। আশা করছি খুব দ্রুত এসব নিবন্ধন হয়ে যাবে। এ নিবন্ধনগুলো অফিসভিত্তিক। সাধারণত অফিসগুলো দল বেঁধে নিবন্ধন করছে। তারা এলে একটা বড় অংশের নিবন্ধন হয়ে যাবে। নিবন্ধন এক চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে আগামীকাল দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার মতো নিবন্ধন হয়ে যাবে। এর পর থেকে নিবন্ধন ও টিকাদান কার্যক্রম চলতেই থাকবে।
করোনাভাইরাসের টিকা পেতে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে গিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। প্রথম মাসে ১৫টি পেশার প্রায় ২৭ লাখ সম্মুখসারির কর্মী ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সীসহ ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা ছিল সরকারের। টিকা পেতে যারা নিবন্ধন করেছেন তারা কবে কোন কেন্দ্রে টিকা পাবেন তা আজ সকাল থেকে নিবন্ধনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আগামীকাল যারা ভ্যাকসিন পাবেন আজ সকাল থেকেই তারা মোবাইলে খুদে বার্তায় কেন্দ্রের নাম জানতে পারবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে সবাই বার্তার মাধ্যমে জানতে পারবেন কোন কেন্দ্র থেকে তাকে টিকা দেওয়া হবে।

আগামীকাল সকাল ৯টায় সারা দেশে একযোগে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। সারা দেশে এ কর্মসূচির প্রথম দিনে রাজধানীর ৪৯টি কেন্দ্রে প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছেন ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ কেন্দ্রে কাজ করবে ৩০০-এর বেশি টিম। ২৭ জানুয়ারি সুরক্ষা ওয়েবসাইটে করোনাভাইরাসের টিকা পেতে নিবন্ধন শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গুগল প্লে স্টোরে এ অ্যাপ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্লে স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নিবন্ধন করতে কারও সমস্যা হলে তারা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, সুরক্ষা অ্যাপ এখনো গুগল প্লে স্টোরে আসেনি। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন চলমান আছে। কারও নিবন্ধন করতে সমস্যা হলে তারা টিকা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রে যেদিন নিবন্ধন করবেন সেদিন টিকা নাও পেতে পারেন, দু-এক দিন পরে টিকা পেতে পারেন।

দেশে এখন ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন (টিকা) রয়েছে। প্রথম মাসে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। এখন প্রথম মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার চার সপ্তাহ পরই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে বলে জানান নাসিমা সুলতানা। ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই দিন ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়। এর পরদিন ঢাকার পাঁচ হাসপাতালে ৫৪১ জনকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণে টিকা নেওয়া সবাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.