জাবিতে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্তরা এখন নিরাপত্তা কর্মকর্তা - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

জাবিতে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্তরা এখন নিরাপত্তা কর্মকর্তা

SS iT Computer

জাবিতে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্তরা এখন নিরাপত্তা কর্মকর্তা: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ও মাছ চুরিসহ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। গত ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পাওয়া রাশেদুল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলে নিয়োগ বাণিজ্য ও বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে ক্যাম্পাসের লেকে মাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকে মাছ ধরতে এলে ১০ জেলেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা। আটক জেলেরা জানায়, ক্যাম্পাসে মাছ ধরার জন্য রাশেদুল তাদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তবে এ বিষয়ে তখন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নিয়োগ পাওয়া আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাসেল মিয়া স্বাধীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং দোকানে ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের (ডেইরি ফার্ম) ভেতরে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন তিনি। এ নিয়েও সেসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। গণপিটুনির পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বাধীন বেশ কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে শয্যাশায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছেন হলটির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পাওয়া রাশেদুল ইসলাম রাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৩৭তম ব্যাচ এবং স্বাধীন প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জনি-রাজিব কমিটিতে রাশেদুল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীন সহ-সভাপতি ছিলেন।

গত ৬ নভেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া মনজুরুল করিম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাফিন-সাম্য কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।

চলতি বছরের ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়টি পদে ১০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেগুলোর মধ্যে তিনটি পদে চারজন কর্মকর্তা নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ৬ নভেম্বরের আগে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ৬ নভেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় শুধুমাত্র দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও উপাচার্য অফিসের একজন কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একসঙ্গে ১০ জনের নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও তড়িঘড়ি করে বিতর্কিতদের নিয়োগ দিতে ওই সিন্ডিকেট সভায় শুধু ৩ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (আইআইটি) একজন ‘টেকনিক্যাল এক্সপার্টের’ প্রয়োজন হলেও ‘উপাচার্যের পছন্দের প্রার্থীকে’ নিয়োগ দিতে সেখানে প্রশাসনিক অফিসার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই প্রশাসনিক অফিসার পদের মৌখিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী এক শিক্ষকের ভাইকে নিয়োগ বোর্ড নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রায় প্রতিটি পদেই আগে থেকে প্রার্থী নির্ধারণ করা ছিল। অন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্য জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা, ছাত্রলীগের সাবেক দুজন সভাপতির স্ত্রী এবং একজন শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্য।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনাকাক্সিক্ষত। এমন অভিযোগে অভিযুক্তদের নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনিরাপদ হবে।’

বিতর্কিত এই নিয়োগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এর আগে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি বলো ওই ছেলেদের সম্পর্কে, তাহলে অবশ্যই প্রমাণ নিয়ে আসবে।’

তখন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মাছ চুরি ও চাঁদাবাজির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের কথা জানালে উপাচার্য বলেছিলেন, ‘গণমাধ্যম তো বিশ্বাসযোগ্য না। বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্নভাবে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার মধ্যে আছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কেবল প্রমাণ থাকলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.