জবিতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের মনোনয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

জবিতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের মনোনয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

SS iT Computer

জবিতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের মনোনয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ এর মনোনয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য একজনের নাম মনোনয়ন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে রেজিস্টার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা বলছে, ডিন অফিস বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও নির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, ইউজিসির প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ১০% (শতকরা ১০ নম্বর) যুক্ত করে স্নাতক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ৯০% (শতকরা ৯০ নম্বর) যোগ করে মনোনয়ন দিতে হবে’ উল্লেখ আছে।

এই নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার দপ্তর থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ৬ অনুষদ থেকে সর্বমোট ৭ জনের নাম পাঠানো হয়।

কলা অনুষদে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দুইজনের সিজিপিএ প্রাপ্ত নম্বর একই হওয়ায় সেখান থেকে দুইজনের নাম পাঠানো হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের জন্য ৫টি অনুষদের ডিন অফিস থেকে ফলাফল পাঠানো হলেও কলা অনুষদে এই ‘তথ্য নেই’ জানায়। কিন্তু অনলাইনে ওই সেশনের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট আছে, যা এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

সেই ফলাফল থেকে জানা যায়, কলা অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী একজন ভর্তি পরীক্ষার ৬৭.২৫ নম্বর পেয়ে ২১৫৬ সিরিয়াল ও অন্যজন ৬৭.০০ নম্বর পেয়ে ২২৬০ সিরিয়ালে থেকে ভর্তি হন। নীতিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত ফলাফলের ৯০ শতাংশ নম্বরের সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ১০ শতাংশ যোগ করা হলে বঞ্চিত শিক্ষার্থী এগিয়ে থাকে।

মনোনয়ন বঞ্চিত ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দুইজনের সিজিপিএ প্রাপ্ত নম্বর একই। তবে ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরসহ যোগ করলে আমার নম্বর বেশি। নীতিমালা অনুযায়ী এই পদকের জন্য আমাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে যৌথভাবে আমাদের নাম আসলেও তথ্য চাওয়ার জন্য আমাকে ফোন দেয়া হয়নি, অন্যজনকে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একেএম আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল হয় সিজিপিএর ভিত্তিতে। আমার কাছে অনুষদের সর্বোচ্চ ফলাফলধারীর নাম ও ফলাফল চাওয়া হয়েছে। আমি সেই তথ্য পাঠিয়েছি।

“কলা অনুষদ থেকে দুইজনের সিজিপিএ সমান হওয়ায় আমি দুইজনের নামই পাঠিয়েছি। এখন ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলের তথ্য দিবে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিস। তারপর উভয় ফলাফল সমন্বয় করে যে এগিয়ে থাকবে তার নাম যাবে।”

জবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (বৃত্তি ও একাডেমিক) আশরা-উন-আকতার তুহিন বলেন, আমরা নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিজিপিএধারীর তালিকার জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের জন্য সব ডিন অফিসে চিঠি দেই। তার মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে কলা অনুষদের দুজনের নাম পাঠায়। কলা অনুষদের কাছে ওই দুজনের ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর চাইলে তাদের কাছে এই তথ্য নেই বলে জানায়।

“আমি নিজেও কয়েকবার ডিন অফিসে গিয়ে এই তথ্য চেয়েছি কিন্তু তারা দেয়নি। এখন আমাদের এই তালিকা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। তাই আমরা একজনের নাম দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার এসএম এনামুল হক বলেন, আমার কাছে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দুইজন শিক্ষার্থীর তথ্য চাওয়া হয়েছিলো। আমি এখানে নতুন এসেছি, এতো আগের তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। আমাদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সব তথ্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে বুঝিয়ে দেই। আমি তুহিন আপাকে বলেছি আইটি দপ্তর অথবা রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখায় খোঁজ নিতে। তবে এখন যেহেতু ফলাফল শিট পাওয়া গেছে ডিন স্যার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, কলা অনুষদের অফিসে সব বর্ষের ফলাফলই থাকার কথা। আমি ডিন হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। এ বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। তবে যেহেতু একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে আমার কাছে আসবে। নীতিমালা অনুযায়ী যে যোগ্য সেই মনোনিত হবে।

জবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, আমি বৃত্তি ও একাডেমিক শাখাকে বলেছি আবার সব কাগজপত্র দিতে। আমরা এটা নিয়ে আলাদা করে বসবো। যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের কাগজ পাওয়া গিয়েছে আমরা সেটা বিবেচনা করবো। সবাই বসে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, যেহেতু এই পদক দেয়ার জন্য একটা নীতিমালা আছে, সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমি রেজিস্ট্রারকে বলেছি। তিনি এ বিষয়ে কাজ করবেন।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.