জনপ্রশাসন সচিবকে মুখ্যসচিবের প্রশ্ন : পদোন্নতিতে ডিও লেটার বিধি পরিপন্থী নয়? - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

জনপ্রশাসন সচিবকে মুখ্যসচিবের প্রশ্ন : পদোন্নতিতে ডিও লেটার বিধি পরিপন্থী নয়?

SS iT Computer

জনপ্রশাসন সচিবকে মুখ্যসচিবের প্রশ্ন : পদোন্নতিতে ডিও লেটার বিধি পরিপন্থী নয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) প্রথম বৈঠকের মধ্য দিয়ে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিবে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি বৈঠক। শিগগিরই আরো দুই-একটি বৈঠক শেষে চলতি মাসের শেষে অথবা মার্চ মাসের প্রথম দিকেই পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে যোগ্য কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শওকত রশীদ চৌধুরীকে অতিরিক্ত সচিবে পদোন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসে ব্যক্তিগত ভূমিকা কামনা করে আধা সরকারিপত্র দিয়েছে তার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। আধাসরকারি পত্রে তিনি লিখেছেন, শওকত রশীদ চৌধুরী প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি আমার নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা উপজেলার চাতরী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও সম্ভ্রান্ত প্রগতিশীল পরিবারের সন্তান। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে এবং তার পরিবারকে চিনি ও জানি। আমার জানা মতে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সার্বিক বিবেচনায় তিনি অতিরিক্ত সচিবে দ্রুত পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য। এমতাবস্থায় তাকে অতিরিক্ত সচিবে পদোন্নতি প্রদানে আপনার ব্যক্তিগত ভূমিকা কামনা করছি।

এই আধা সরকারিপত্র পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস জনপ্রশাসন সচিবকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী এই জাতীয় পত্র কি শৃঙ্খলা পরিপন্থী নয়, দয়া করে জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব মহোদয় জানান।

একইভাবে ভূমিমন্ত্রী শওকত রশীদ চৌধুরী পদোন্নতির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমকেও আধা সরকারি পত্র দিয়েছেন তিনি। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) আশরাফ উদ্দীন আহাম্মদ খানকে অতিরিক্ত সচিবে পদোন্নতির জন্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে আধা সরকারি পত্র দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

পত্রে তিনি লিখেছেন, আশরাফ উদ্দীন আহাম্মদ খান ১৩তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন কর্মঠ, সৎ এবং দক্ষ কর্মকর্তা। তাছাড়া তিনি অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতিযোগ্য একজন কর্মকর্তা। তাকে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি প্রদান করা হলে বর্তমান সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এমতাবস্থায় তাকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার ব্যক্তিগত সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব নাসির উদ্দিন তরফদারকে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির জন্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে আধা সরকারি পত্র দিয়েছেন জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজম। তিনি পত্রে লিখেছেন, নাসির উদ্দিন তরফদার আমার নিকটাত্মীয়। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত। এ ক্ষেত্রে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি পাওয়ার অধিকারী। এমতাবস্থায় তাকে পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর সুপারিশ করছি।

যদিও ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রভাব খাটাতে পারেন না। ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী তাহার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহিঃপ্রভাব খাটাইতে বা খাটাইবার চেষ্টা করিতে পারিবেন না।’ একই আইনে তদবির করার জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আইনটির ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো ব্যাপারে তাহার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরোধ জানাইতে পারিবেন না।’

১৯৫৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক স্মারকেও কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের কাছে তদবির করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. মুসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে কোনো মন্ত্রী বা এমপি তদবির করতে পারেন না। সরকারি বিধিতে তদবির নিষিদ্ধ। যার তদবির করছেন তারা আইন লঙ্ঘন করছেন। যদি তারা এমনটি করতেই থাকেন তাহলে আইন থাকার প্রয়োজন কোথায়।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.