‘গুগল মিট’ অ্যাপ নিয়ে বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষকরা – আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

‘গুগল মিট’ অ্যাপ নিয়ে বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষকরা

‘গুগল মিট’ অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষকরা নানা সমস্যায় পড়ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। সেসব সমস্যার কোনো বাস্তবানুগ সমাধান দিচ্ছে না অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারাও কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছেন না। তারা শুধু নির্দেশনা দিয়েই খালাস।

‘গুগল মিট’-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০০ ব্যক্তি একসঙ্গে এক ঘণ্টা ভিডিও কলের মাধ্যমে কনফারেন্স করতে পারেন। গত এক বছর ধরে প্রাথমিক অনলাইন ক্লাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মিটিংয়ে জুম অ্যাপ ব্যবহূত হচ্ছিল। কিন্তু গত ২৯ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ‘গুগল মিট’কে অনলাইন ক্লাসের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

শিক্ষকরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত দরিদ্র ও সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করে। তাদের বেশিরভাগেরই কোনো মোবাইল ফোন নেই।

তার ওপর এত ছোট শিশুকে (প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি) পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেন না। বেশিরভাগ পরিবারে একটিই মোবাইল ফোন থাকে, তাও শিশুর বাবার কাছে। দিনের বেলায় ক্লাস চলার সময় শিক্ষার্থীর বাবা কর্মস্থলে থাকেন। তাই শিশুরা ক্লাস করতে পারে না। আবার রাতেও ক্লাস নেওয়া যায় না। কারণ এই ছোট্ট শিশু বেশিরভাগই সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়ে।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, ইন্টারনেটের অপ্রতুলতাও একটি বড় সমস্যা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঠিকমতো নেট পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ সময় অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে এমবি থাকে না। এসব বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোনো পরামর্শ মিলছে না। ‘গুগল মিট’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে এর সফলতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোলার দৌলতখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোখলেছুর রহমান খান বলেন, সমস্যা হলো, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করতে অভ্যস্ত নয়। ক্লাস নেওয়ার সময় তাদের পাওয়া যায় না। কারণ মোবাইল ফোন থাকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে। অনলাইন পাঠদানের সঙ্গে আমরা নিজেদের এবং শিক্ষার্থীদেরও অভ্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করছি। এ জন্য শিক্ষকদের আইসিটিতে দক্ষ করে তুলতে হবে।

ঝালকাঠী সদরের বাউকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, গ্রামাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং সব শিশুর অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকা। শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলেই হবে না; তা আবার হতে হবে ৫ দশমিক শূন্য ভার্সনের। এতে আবার বারবার নতুন কোড ব্যবহার করতে হয়।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   

আপনার মতামত প্রকাশ করুন