খারাপ ফলের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া ছাত্র পেল জিপিএ ৫ - আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

খারাপ ফলের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া ছাত্র পেল জিপিএ ৫

SS iT Computer

খারাপ ফলের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া ছাত্র পেল জিপিএ ৫: স্কুলছাত্র আনাস মো. মোস্তাকিম হকের এসএসসি পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। তাই খারাপ ফলাফল হবে এমন আশংকায় একটি চিরকুট লিখে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে হোটেল বয়ের চাকরি নেয় সে।

শুধু তাই নয়, পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ করে দেয় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও। ফলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখে জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। ফলে মোবাইল চালু করলে পুলিশ তাকে রংপুর থেকে উদ্ধার করে।

সিনেমার গল্পের মতো ঘটনার সৃষ্টিকারী এই স্কুলছাত্র আনাস মো. মোস্তাকিম হকের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে। তবে সে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছিল। এই স্কুল থেকেই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

আনাস জানায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। কিন্তু তার পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। তাই ধারণা ছিল এই বিষয়ে ফল খারাপ হবে। এ কারণে অবসাদ গ্রাস করে তাকে। হতাশা ও অবসাদ থেকে গত ২২ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রংপুরে। সেখানে সিলসিলা হোটেলে গিয়ে শুধুমাত্র থাকা ও খাওয়া ফ্রি হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয়। যাওয়ার আগে আনাস একটি চিরকুট লিখে যায়। তাতে সে লেখে ‌‌’আম্মু আমি চলে যাচ্ছি। আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমার কাছে বাসা থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা ছিল না। রেজাল্ট জানি না কি হবে। তবে এটা নিশ্চিত যে জিপিএ ৫ আসবে না। সব দোষ আমার।

এদিকে আনাস চলে যাওয়ার পর দিন তার বড় ভাই বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ থাকায় এবং আর কোনো ক্লু না পাওয়ায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারছিল না। গত বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশ হলে আনাস তার মোবাইল চালু করে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার সন্ধান পায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি দায়েরের পর থেকে আমরা তার সন্ধানে কাজ করছিলাম। বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফলাফলের পর সে তার মোবাইল ফোন চালু করলে আমরা তার সন্ধান পাই। শেষে রবিবার সকালে আমরা রংপুর থেকে তাকে উদ্ধার করে এনে বিকালে পরিবারের হাতে তুলে দেই।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.