এত পাস, তবু শিক্ষার্থী পেতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা ফন্দি -

এত পাস, তবু শিক্ষার্থী পেতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা ফন্দি

SS iT Computer
শিক্ষার্থী পেতে নানা ফন্দি করেও নিশ্চিত হতে পাবছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গত বছরের তুলনায় এবার অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে তিনলাখ শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেয়া হলেও ৫০টির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন পূর্ণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নানা রকম ছাড় আর কথিত স্কলারশীপের অফার দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনাপূর্ব সময়ে দেশে গড়ে প্রতিবছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখের মতো। এ বছর সেখানে পাস করিয়ে দেয়া হয়েছে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন। এই সাড়ে তিন লাখ বেশি শিক্ষার্থীর কারণে এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন খালি থাকবে না বলে অনেকে ধারণা করলেও বাস্তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁরা বলছেন—প্রথমত, শিক্ষার্থীদের প্রথম লক্ষ্য থাকে পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর তারা ঝোঁকে বেসরকারির দিকে। সে ক্ষেত্রে মানের দিকে নজর দেয় তারা। আর দেশে তেমন মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০টির বেশি না।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যানুযায়ী, দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৭টি। অবশ্য এর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে ৯৭টিতে। বছরে দুই সেমিস্টার হিসাবে আসনসংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ চার হাজারের মতো। যদিও বাস্তবে বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তিন সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা হবে তিন লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার বিষয় রয়েছে। খরচ বেশি হওয়ায় অসচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে দেখা গেছে, এইচএসসির পরে উচ্চশিক্ষায় গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। করোনা পরিস্থিতিতে এ হার বাড়বে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।

তাঁরা আরো বলছেন, দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) ও সমমান কোর্সে ১৩ লাখ ২০ হাজারের মতো আসন রয়েছে। ফলে আসন সংকটেরও কোনো কারণ ঘটবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে শুরু হয় স্প্রিং সেমিস্টার, মে মাস থেকে সামার এবং সেপ্টেম্বর থেকে ফল সেমিস্টার শুরু হয়। তবে এবার এখনো স্প্রিং সেমিস্টার শুরু হয়নি। যেহেতু সদ্যই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরো কিছুদিন পরে এই সেমিস্টার শুরু করতে চায়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছরের স্প্রিং সেমিস্টারে খুব বেশি শিক্ষার্থী পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এপ্রিলের দিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এতে যারা টিকতে পারবে না তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকবে। এ জন্য তাঁরা সামার সেমিস্টারের দিকে তাকিয়ে আছেন। এ লক্ষ্যে নানা ধরনের অফারও দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেকেই ভর্তিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথা বলছে। কেউ কেউ নানা ধরনের স্কলারশিপের অফার দিচ্ছে।

তবে নানা ধরনের অফার দিলেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে, তারাই এগিয়ে যাবে। এর বাইরে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়গুলোতে নানা ধরনের সার্টিফিকেশন ও অ্যাক্রিডিটেশন রয়েছে সেগুলোকেও গুরুত্ব দেবে শিক্ষার্থীরা। সুনামের ব্যাপার তো রয়েছেই। এর বাইরে যাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে এবং সহজে যাতায়াত করা যায়, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বেশি ঝুঁকবে শিক্ষার্থীরা।

করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর সামার ও ফল সেমিস্টারে হাতে গোনা কয়েকটি বাদে বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ব্যাপক কমেছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টিউশন ফি পরিশোধও করতে পারেনি। সব মিলিয়ে আয় কমে যাওয়ায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জনবল কমিয়েছে। কোনো কোনোটিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমানো হয়েছে। এইচএসসির ফল প্রকাশে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহসভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সাড়ে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে কম-বেশি সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী পাওয়ার কথা। তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি এককভাবে আগের নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করে, তাহলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংকটে পড়বে। এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে আমরা ইউজিসিকেও জানিয়েছি।’

এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, আগে থেকেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় খারাপ অবস্থায় আছে। এখন যদি সবাই শিক্ষার্থী না পায়, তাহলে সেই তালিকায় আরো বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হবে।

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

বাছাইকৃত সংবাদঃ

Comments are closed.