উপবৃত্তি : নগদের পোর্টালে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে পারেনি বেশিরভাগ স্কুল – আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

উপবৃত্তি : নগদের পোর্টালে শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করতে পারেনি বেশিরভাগ স্কুল

ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের পোর্টালে উপবৃত্তি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রির জন্য সময় আগামী রোববার (১৭ জানুয়ারি) শেষ হচ্ছে। তবে, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৪ হাজার স্কুল তথ্য অন্তর্ভুক্তির কাজ শেষ করেছে। আর প্রায় ৫৬ হাজার স্কুল তথ্য অন্তর্ভুক্তির জন্য লগইন করলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। উপবৃত্তির তথ্য অন্তর্ভুক্তির সময় আবারও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

নতুন নিয়মে প্রথমবারের মত সব প্রধান শিক্ষকদের নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার ডাটা লাইভ এন্ট্রি করতে হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য দিতে নগদ তাদের পোর্টাল ডাটা এন্ট্রির জন্য খুলে দিয়েছে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষকরা। এরমূল কারণ শিক্ষার্থীদের জন্মসনদ সংগ্রহ করতে অভিভাবকদের অনেক সময় লাগছে। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছেন, তথ্য অন্তর্ভুক্তি শুরু করলেও কাজ শেষ করতে পারছেন না কারণ অভিভাবকরা জন্মসনদ দিচ্ছেন না। আর ইন্টারনেট জটিলতায় কোথাও কোথাও সার্ভার ডাউন দেখাচ্ছে। এসব কারণে তথ্য অন্তর্ভুক্তিতে অনেক সময় লাগছে।

এক দফায় সময় বাড়ানোর পরেও শিক্ষকদের কাজের ধীরগতিতে হাতশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ৫৫ হাজার ৯৫৮টি প্রাইমারি স্কুল ডাটা এন্ট্রির কাজ শুরু করলেও শেষ করেছে মাত্র ৪ হাজার ৬৯৪টি। যা হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তাই, মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হয়ে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের গত ১৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও নগদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হবে। নতুন নিয়মে উপবৃত্তির টাকা দিতে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহে একটি অনলাইন পোর্টাল খুলেছে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।

নগদের উপবৃত্তি পোর্টালে দেশের সব প্রকল্পভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সব ডাটা লাইভ এন্ট্রি করবেন। উপবৃত্তির টাকা সুবিধাভোগীদের মাঝে জিটুপি সিস্টেমে দেয়া হবে। তথ্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী অভিভাবকদের যে মোবাইল নম্বর উপবৃত্তির টাকা দেয়ার জন্য পোর্টালে এন্ট্রি করবেন ,তা অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধান শিক্ষকদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নগদের পোর্টালে (pesp.mynagad.com.bd/login) তথ্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের ইএমআইএস কোডকে ইউসার আইডি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। আর পাসওয়ার্ড উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে পাঠিয়েছে নগদ। প্রধান শিক্ষকরা পাসওয়ার্ড নিজের সুবিধা মত রিসেট করতে পারবেন ও গোপনীয়তা রক্ষা করবেন।
আরও পড়ুন: নগদের পোর্টালে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রিতে বিড়ম্বনায় শিক্ষক-অভিভাবকরা
উপবৃত্তি : নগদের পোর্টালে শিক্ষার্থীদের তথ্য দেয়ার সময় বাড়ানোর দাবি
নগদের পোর্টালে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি যেভাবে

পোর্টালে শিক্ষার্থীদের মায়ের এনআইডি নম্বর ও সেই এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করতে হবে। যদি তা না থাকে সেক্ষেত্রে বৈধ অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। পোর্টালে যে মোবাইল নম্বর দেয়া হবে তা অবশ্যই সচল ও অভিভাবকের আয়ত্বে থাকতে হবে। বার্ষিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হবে।

নগদ পোর্টালে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩য় কিস্তিতে যেসব শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি দেয়া হয়েছিল তাদের তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এ ডাটাগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন করে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের উপবৃত্তির সুবিধাভোগীদের তালিকা ও ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৪র্থ কিস্তির উপবৃত্তির টাকা বিতরণের উপযোগী চাহিদা পোর্টালে লাইভ এন্ট্রি আগামী ১৭ জানুয়ারি মধ্যে শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকাও পোর্টালে দেয়া আছে।
শেয়ার করুন:
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    2
    Shares
  •  
    2
    Shares
  •  
  •  
  • 2
  •