আদেশ জারির বছর পেরোলেও বেতন বাড়েনি ইবতেদায়ি প্রধানদের – আজকের শিক্ষা || ajkershiksha.com

আদেশ জারির বছর পেরোলেও বেতন বাড়েনি ইবতেদায়ি প্রধানদের

মাদরাসার ইবতেদায়ি প্রধানরা এমপিও নীতিমালা অনুসারে বর্ধিত গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না। নীতিমালায় ১১তম গ্রেডে বেতনের কথা বলা হলেও ১৫ গ্রেডে বেতন পেয়ে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আড়াই বছর আগে জারি হওয়া এমপিও নীতিমালায় তাদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। নীতিমালা অনুসারে শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেত দেয়ার আদেশ জারি হয় এক বছর আগে। তবুও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই, সারাদেশের ইবতেদায়ি প্রধানরা এমপিও নীতিমালা অনুসারে তাদের ১১ তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েকদিনে শত শত ইবতেদায়ি প্রধান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে ইমেইল করে এসব কথা জানান।

জানা গেছে, ইবতেদায়ি প্রধানদের বেতন ১১তম গ্রেডে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল আড়াই বছর আগে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে জারি করা মাদরাসার এমপিও নীতিমালায় ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার আদেশ জারি হয়েছিল ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি। কিন্তু ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসেও ইবতেদায়ি প্রধানরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না।

মাদরাসার ইবতেদায়ি প্রধানরা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, তারা ১৫ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুলাই মাদরাসার এমপিও নীতিমালায় ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এখনো তা পাননি। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসারে শিক্ষকদের অনুকুলে সৃষ্ট বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ সুবিধা বিধি বিধান মেনে দেয়ার জন্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। কিন্তু নানা অজুহাতে ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১তম গ্রেডে বেতন দিচ্ছেনা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১ গ্রেডে বেতন নীতিমালা জারির দিন হতে বকেয়া দেয়া হবে কি না তার স্পষ্টিকরণ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কাছে চায় অধিদপ্তর। একইসাথে মাদরাসা শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। ইতোমধ্যে মাদরাসা শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেডের আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও ইবতেদায়ি প্রধানদের আবেদন নেয়া হচ্ছে না। তাই ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ইবতেদায়ি প্রধানরা।

ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১তম গ্রেড নিয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ইবতেদায়ি প্রধানদের বেতন ১১তম গ্রেডে দেয়ার আদেশ জারি হলেও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছিল অধিদপ্তর। এখনো এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত পাইনি। মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত না। তাই ইবতেদায়ি প্রধানদের ১১তম গ্রেডে বেতন এখনো কার্যকর হচ্ছে না।

শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেছেন, ৪০টির ও বেশি ইবতেদায়ি প্রধানরা ১১গ্রেডে বেতন পাচ্ছে । এমনকি নীতিমালার আলোকে ১০বছর পর প্রথম উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হয়ে ১০তম গ্রেড পাচ্ছেন। রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার মাজবাড়ি সিদ্দিকিয়া আহমদিয়া সেতারুল হক আলিম মাদরাসার ইবতেদায়ি প্রধান মো: ইউনুছ আলী ১০ বছর পর প্রথম উচ্চতর স্কেল ও পরবর্তী ৬ বছর চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর স্কেল ৯ম গ্রেডসহ ২৪ হাজার ৪৩২ টাকা বেতন পাচ্ছেন। অথচ এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েও ১১ তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না অনেক শিক্ষক। নীতিমালা শুরুর দিন হতেই দাখিল শাখার শিক্ষকদের প্রাপ্ত গ্রেডে বেতন দেয়া হচ্ছে। আর ইবতেদায়ি প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডে বেতনভাতা দেয়া হচ্ছে না। বিষয়গুলো সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   

আপনার মতামত প্রকাশ করুন